বৈশাখে

দুবছর আগে, নববর্ষের শোভাযাত্রায় হেঁটেছিলাম রংধনু রঙে , সেদিন গেয়েছিলাম “আমরা করব জয় , আমরা করব জয় । বুকের গভীরে আছে প্রত্যয় আমরা করব জয় একদিন ।” ভীষণ এক উদ্দীপনা আর উত্তেজনার সেই নববর্ষ উদযাপনের রংধনু যাত্রায় আমরা স্বপ্ন দেখেছি হাতে হাত রেখে সমানাধিকার , স্বীকৃতি আর সমমর্যাদা নিয়ে বাঁচার । আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম এগিয়ে যাবার , আরও বড় পরিসরে , আরও বিস্তৃত ভাবে বৈচিত্র্য উদযাপন করার ; আরও একটি বাংলা নতুন বছরের শুরুতে । গতবছরও আমরা হেঁটেছি শাহবাগ এর নতুন সকালে , উদযাপনের দঙ্গলে, বিচ্ছিন্ন রঙহীন ভাবে । সেবার আমি আর গাইতে পারি নি “আমরা করব জয় “। আমার পাশে xulhaz চলতে চলতে কেঁদেছে , কালো চশমায় চোখ ঢেকেছে । তনয় নিশ্চুপ নিরুত্তাপে অনুসরণ করেছে আমাদের । আমরা বুঝতে শিখেছিলাম আরও অন্য অনেকের মতন আমরা চাইলেই পারি না আমাদের মত করে রঙ ছড়িয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে । আমরা চাইলেই পারি না সমমর্যাদায় হাতে হাত রাখতে । আমাদের সেই রঙ ছড়ানোর স্বপ্ন দেখার অপরাধের দেনা আমার শোধ করেছি লাল রঙ্গে , গত বৈশাখ এর এক গরম রক্তাক্ত বিকেলে । তবুও এবারের নতুন বছরের মিছিলে কিন্তু আমার আছি , একটু খেয়াল করলে দেখবেন আমরা আছি আপনার গা ঘেঁষেই , আপনার হলুদ পাঞ্জাবী , লাল শাড়ি, বেগুনী ওড়না , নীল জামা , আসমানি চুড়ি ,সবুজ ফতুয়া আর কমলা টিপ এর রঙ একসঙ্গে করেছি আমরা আমাদের নববর্ষ বরণ এর রংধনু সাজাতে । এই মিছিলে Xulhaz কিম্বা Tonoy আছে কিনা আমার জানা নেই , কিন্তু একটু কান পাতুন শুনতে পাবেন আজ সবাই গাইছে”আমরা করব জয় , আমরা করব জয় । বুকের গভীরে আছে প্রত্যয় আমরা করব জয় একদিন ।” আর রংধনু টা কোথায় ? আপনার মাথার উপরে , বৈশাখ এর রোদ ঝলসানো আকাশে । রংধনুর লাল কে মাটিতে আলাদা করা যায় , আকাশে নয় । শুভ ১৪২৪ ।