২৫ এপ্রিল দুজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিলো, একবার তাদের মানুষ বলুন।

এডিটোরিয়াল নোটঃ দেশের বিদ্যমান তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখে লেখাটির কিছু অংশ পরিবর্তিত/বাদ দেয়া হয়েছে। লেখকের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। পরিপূর্ণ মত প্রকাশে ব্যর্থতার  এই দায় আমাদের সকলের । রূপবান লেখকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

২৫ এপ্রিল, সবার জন্য একটা দিন, একটা তারিখ, একটা মাস। আর বাংলাদেশের সমকামী গোষ্ঠীর জন্য একটা আতঙ্ক, উদ্বেগ আর বিভৎস স্মৃতির দিন। ২০১৬ সালের এই দিনেই নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের সমকামী কর্মকান্ডের অন্যতম দুজন অগ্রগামী মানুষকে। দিনে দুপুরে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে মেরে, নিরাপদ পলায়ন ঘটে, হত্যার পরে, কেউ দায় স্বীকার করেনি তৎক্ষণাত। তবে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি, বাংলাদেশে কোপাকুপি এক্সপার্ট আনসারুল্লাহ বাংলা টিম গতানুগতিক ভাবে হত্যার দায় স্বীকার  করে নেয়। তারপর ২বছর গেলো, আজ অবধি মামলার কোনো অগ্রগতি নেই, হত্যাকারী সনাক্ত বা গ্রেফতার তো বহু দূরের ভাবনা। আসলে মানুষ মারলে তো মামলা আর বিচারের প্রশ্ন আসে। জুলহাজ-তনয় তো মানুষ ছিলো না, তারা উগ্রবাদী আর বাংলাদেশের গড়পতা মানুষের কাছে ছিলো অসুস্থ সমকামী। আর আমার মতো সমকামীদের কাছে ছিলো, দুজন স্বপ্নবাজ।

 

০১.

২০১৬ সালে সন্ধ্যায় আমাকে আমার এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলে, শুনলাম জুলহাজ ভাইকে মেরে ফেলছে, একটু খবর নিয়ে দেখো তো সত্যি নাকি? আমি নিউজ পোর্টাল গুলো ঘেঁটেঘুঁটে দেখলাম কলাবাগানে বিকালে জোড়াখুনের খবর দিয়ে সব নিউজ পোর্টাল ভরে গেছে। সত্যি বলতে কি হাত-পা বরফ হয়ে গিয়েছিলো, আসলেই! মেরে ফেললো দুজন মানুষকে! মানে সকালে যারা জীবিত ছিলো, আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে যাদের স্বপ্ন ছিলো। কেউ বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, আমি সেই দিন থেকে পরবর্তী দুইদিন তন্ন-তন্ন করে গণমাধ্যমের খবর গুলো দেখেছি, পড়েছি, শুনেছি। কিন্তু কি জানেন কোথাও কেউ বললো না দুজন মানুষ খুন হয়েছে, বাংলাদেশের দুজন নাগরিক খুন হয়েছে। সবাই লিখলো, বললো, পড়লো বাংলাদেশে দুজন সমকামী অধিকারকার্মী খুন হয়েছে। আচ্ছা এদেরকে মানুষ বলে কবে সম্বোধন করা হবে কেউ বলতে পারেন?

হত্যার দুইদিন পর সকালে বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে বললেন বাংলাদেশে তো এইসব চলে না, তারা সমকামী ছিলেন তারপর যুক্ত করলেন তারপরও আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু তার বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ওই হত্যাকান্ডে অনুসমর্থন ব্যক্ত করলেন তার কৌশলী বক্তব্যে। হত্যার পরে জানা গিয়েছিলো, এই হত্যাকান্ড আল-কায়দার সহায়তায় আনসারুল্লাহ্ বাংলা টিম ঘটিয়েছিলো, এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সকল জঙ্গী হামলায় সরকারের উদ্বিগ্নতা থাকলেও, যখন কোনো মানবাধিকার অধিকারকর্মী খুন হয়, যখন কোনো ব্লগার খুন হয়, যখন কোনো নাস্তিক খুন হয়, যখন দুজন বৈচিত্রময় লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষ খুন হলো, সরকার কিন্তু শেষমেশ যারা ভিক্টিম তাদের উপরেও দোষের ভার চাপিয়ে দিলো।

 

০২.

হত্যার উৎকন্ঠা যখন চরমে, তখন ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে ভিরু কাপুরুষের মতো একে একে সব ছবি আমি মুছতে শুরু করেছি, ফোন দিয়ে কেউ খবর নিচ্ছে, কেউ খবর দিচ্ছে, খবর দেয়া নেয়ার মাঝেই মধ্যরাতে মানে ২৬ এপ্রিল প্রথম প্রহরে খবর পেলাম একটা ছেলে আত্মহত্যা করেছে। মায়ের এক মাত্র সম্বল ছিলো, বাপ মরা ছেলে, মা সমেত থাকতো, রূপবানের সাথে খুউব একটা কাজ করেছে বলে জানা নেই, কিন্তু কি বুঝে ওই ছেলে জুলহাজ-তনয় হত্যার রাতেই আত্মহত্যা করলো। আচ্ছা এটা কি আত্মহত্যা ছিলো? ছিলো সম্ভবত, আপাত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে আত্মহত্যাই,  কিন্তু যে সামাজিক হতাশা আর ভয় ছেলেটিকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিলো, তা বিবেচনা করলে এটাও কিন্তু একটা রাষ্ট্রঘটিত হত্যাকান্ড ছিলো। যদিও কখনো তার নামে কেউ মোম জ্বালায়নি, মৃত্যুদিবসে স্মরণ করেনি কেউ, কারন তার হত্যাটা ততটা জাঁকজমক ভাবে হয়নি যতটা হয়েছে জুলহাজ-তনয়ের।

আমি না, অনেক লিখি, বাংলা লেখার গতি আমার দারুন, খুব দ্রুত টাইপ করি, তাই মাঝে অনেক সময় বানান বিভ্রাট গুলো থেকে যায়, কিন্তু এই একটা বিষয় নিয়ে আমার পক্ষে লেখাটা খুউব কঠিন, বুকের ভিতরটা দুরদুর করে কাঁপতে থাকে, অজানা শঙ্কায় আঙ্গুলগুলো থেমে থেমে জায়।  কোনো সমকামী যদি কাল নিহত হয়, তবে আমি জানি সেই সমকামীর জন্যও কোনো বিচার পাবে না তার পরিবার। আমাদের পরিবারগুলোও আজব, কখনো একজন মানুষকে যদি তাদের স্বপরিচয়ে জানে, তবে গ্রহণ করতে চায় না, মানতে চায় না, কিন্তু যখন সেই মানুষটি নিহত হয়, আক্রান্ত হয়, এই পরিবারের বাকি সদস্যরা বুকে পাথর নিয়ে, সমাজের মুখে চুনকালি লেপে নির্লজ্জ ভাবে তাদের আপনজনের জন্য লড়াই করতে চায়, মামলা করে, কিন্তু বিচার পায় না। অথচ এই লড়াইটা যদি তারা সেই মানুষটির সমকামী পরিচয়কে মেনে নেয়ার জন্য করতো তবে হয়তো, জুলহাজ-তনয়দের অধিকারে জন্য স্বোচ্চার হয়ে মাঠে নামতে হতো না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাটাই সমকামীরা চায়, আইনের প্রতি বাংলাদেশের আর দশজন মানুষের যেমন কোনো আস্থা নেই, তেমন বাংলাদেশের সমকামীরাও বুঝে, কেবল আইন তাদের সামাজিক সুরক্ষা কখনোই দিতে পারবে না।

 

০৩.

জুলহাজ-তনয় হত্যা নিয়ে এখনো অনেক কিছু অজানা আছে, অনেক তথ্য আছে, অনেক স্মৃতি আছে যা তার আশেপাশের মানুষেরা নিরাপত্তার ভয়ে, প্রকাশ করতে পারে না। অনেকেই ওই নৃশংস হত্যার পরে দেশ ছেড়েছে, বিদেশে শরণার্থী হিসেবে আছে, হয়তো তারা তাদের জীবনের সুরক্ষা পেয়েছে, কিন্তু কি পায়নি তারা জানেন? বাংলাদেশ পায়নি। তসলিমা নাসরিন যেমন বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েও বাংলাদেশের জন্য পারলে গলাছেড়ে বিলোপ করে, তেমনি ওই মানুষগুলো নিজের দেশ, নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতি ছেড়ে কি ভালো থাকতে পারে বলুন? বিশ্বাস করুন একজন সমকামীর সাথে বাকি মানুষগুলোর পার্থক্য কেবল যৌন/ভালোবাসার চাহিদায়। আর কিচ্ছু নয়। বিশ্বাস করুন, তাদের মাঝেও নাস্তিক আছে, আস্তিক আছে, আওয়ামী লীগ আছে, বিএনপি আছে, খুঁজলে জামাত-হেফাজত ও পাওয়া যাবে। তারাও বাংলায় কথা বলে, তারাও ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে, তারাও পাকিস্তানি বর্বরতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে, তারাও মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসে। আপনাদের আর দশজন মানুষে মতো তারাও মসজিদ-মন্দির-গির্জা-পেগডায় যায় প্রার্থনা করে। কিন্তু হায় তারা আর দশজন মানুষের মতো থেকেও কখনো মানুষের মর্যাদা পায় না। বিদেশে সভ্য সমাজে বাস করেও, বাংলাদেশের জন্য নীরবে তারাও চোখে জল ফেলে।

একটা কুত্তার জন্ম তাদের। কেন কুত্তার জন্ম জানেন? কারণ বাংলাদেশের বিখ্যাত পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩৭৭ ধারায় জন্তুজানোয়ারের সাথেই সমকামীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য জন্তু জানোয়ারকে যেমন কুপিয়ে, জবাই করে হত্যা করা হয়, তেমনি  হত্যা করা হয় সমকামীদেরও।

 

০৪.

২৬ তারিখ ২০১৬তে বিকালের দিকে ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখলাম, জুলহাজ রক্তের মাঝে পড়ে আছে, পাশে তাকে ঘিরে কিছু মানুষের কন্ঠস্বর, জুলহাজের মরদেহর সাথে একবৃদ্ধা নারী, চুল সব পাকা, মেক্সি পরা। জুলহাজ উপুড় হয়ে পড়ে আছে, মুখ দেখা যাচ্ছে, পরনে টি-শার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার। বৃদ্ধা মহিলা কাকে যেন বলছেন এভাবে ধরো, ধরে টেনে নিয়ে আসো। জানেন বৃদ্ধা রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ছিলো, কার রক্ত জানেন? ওই বৃদ্ধা নারীর গর্ভের সন্তানের রক্তের উপর…………….

সৃষ্টিকর্তা তখনও লজ্জা পায়নি, কারণ স্রষ্টার সৃষ্টিরা বড় দাঙ্গাবাজ, মা তার সন্তানের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৪ বছরপরের দৃশ্য এটি! মা তার সন্তানের রক্তাক্ত মরো দেহ টেনে নিচ্ছেন। ভাবতে পারেন? তখনো স্রষ্টার আরশের কিচ্ছুটি হয়নি। কারণ হত্যাটি যারা করেছেন তারা তাদের স্রষ্টার ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছেন মাত্র বলে মনে করেন। একজন মাকে তার সন্তানের রক্তের উপর দাঁড়তে হয়েছে, সেটাকে তারা স্রষ্টার ইচ্ছা বলে চালিয়েছেন। আচ্ছা জুলহাজ নাহয় বিধর্মী মুরতাদ সমকামী ছিলো, কিন্তু জুলহাজের মা? সে কি দোষ করেছিলো? তাকে কেন তার সন্তানের রক্তের উপর দাঁড়াতে হলো? ধর্মগুরুদের কাছে আছে কোনো ব্যাখ্যা? নাহ তারা কিছু বললেন না, কারন কাঠুয়ায় যখন ৮ বছরের শিশু নিয়মিত গনধর্ষনের শিকার হতো তখনও তিনি চুপ ছিলেন।

০৫.

জুলহাজ-তনয় মরে গেলে, বাংলাদেশে সমকামী গোষ্ঠী সব জানের ভয়ে মুখ লুকালো, আত্মগোপন করলো, দেশ ছাড়লো, তাদের তেমনটা করতে বাধ্যকরা হলো রাষ্ট্রীয় ভাবে। রাষ্ট্র চাইলে বিচার করতে পারো, অপরাধী ধরতে পারতো কিন্তু রাষ্ট্র তা করবে না। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের ইচ্ছার প্রতিফল তারা ঘটাচ্ছে। যারা দেশে আছেন তাদেরও রাষ্ট্রীয় সংস্থা দ্বারা নিয়মিত হয়রানী করা হচ্ছে।

এখন একটা কথা বলি, xxxxx xxxxx বাংলাদেশের সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেছেন, কারণ xxxxxx xxxx xxxxxx xxxxxxxxx। xxxxxxxxxxx xxxxxxxxx, তার নেতারা xxxx xxxxxxxxx xxxxxx যদি নাগরিক তাদের ভালোমন্দ বুঝতো তবে পূর্ণ গণতান্ত্রিক xxx xxxx xxxxxx, xxxxxxxx xxxxx xxxxxx xxxxx xxxxxxxxx xx xxxxxx xxxxxxx xxxxxxxxxxx xxxxxxxxxx। কিন্তু xxxxxxxxxxxx xxxxxx কি এই বাস্তব সত্যটা অনুধাবন করতে পারছেন না যে সমকামীরা কোনো পশুপাখি নয়, তারা মানুষ? বিদেশে পড়াশোনা করেছেন, উচ্চশিক্ষিত xxxxxxx, xxxxxxxxx আছে xxx, তিনি কি বিজ্ঞানের সাধারণ কথাটি বোঝেন না? xxxxxxxxxxx। যে আচরন আমরা ডানপন্থী xxxxx xxxxxxxx কাছে দেখেছি, xxxxxxx সেই আচরণের পুনঃব্যক্ত করেছেন xxxxx xxxxxxxxx।

 

০৬.

লেখা লম্বা হয়ে গেলো অনেক, বিক্ষিপ্ত ভাবে লিখেছি, লেখাটা শুধু আমার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ আর কিছু বোধের উচ্চারণ মাত্র। আমি জানি এদেশে কখনো জুলহাজ-তনয় হত্যার বিচার হবে না। ভাই সমকামী ছিলো এবং তার জন্য খুন হয়েছে জানার পরে তনয়ের বোনটির বিয়ে হয়েছে কিনা জানি না। জুলহাজের পরিবারের অনেক বক্তব্য ভাষ্য মাঝে মাঝে মিডিয়াতে দেখলেও তনয়ের পরিবারে কোনো কথা কখনো শুনিনি। তনয় নাট্যকর্মী ছিলো, একজন নাট্যকর্মী মৃত্যুবরণ করলে, সংশ্লিষ্ট নাট্যসংগঠন, দল শোকবানী প্রচার করে, তনয়ের জন্য সেভাবে কিছু হয়নি। অন্তত গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশ কোনো শোক প্রকাশ করেনি তা আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি। করবেই বা কেন? তনয় তো কোনো মানুষ ছিলো না, ছিলো সমকামী।

জুলহাজ-তনয় ছাড়াও  বহু সমকামী এদেশে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, হচ্ছে, হবে, কারোরটা মিডিয়া বাজিয়ে হচ্ছে তো কারোটা নিতান্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে, কারোটা প্রত্যক্ষ খুন তো কারোটা পরোক্ষ সামাজিক হত্যাকান্ড। হত্যা কিন্তু ধারাবাহিক ভাবেই চলছে। কুকুর বিড়াল মরলে যেমন নিউজ হয়না সমকামী মরলেও নিউজ হয়না, পরিবারই করতে দেয় না, টাকা ঢেলে খবর ধামাচাপা দেয়, আর মিডিয়াও নিউজের পোয়াবারো চায়। জুলহাজ নেহাতই ইউ এস এ আইডি তে কর্মরত ছিলো বলে একটু মিডিয়া কাভারেজ ভালো পেয়েছে, ততটা কিন্তু তনয় পায়নি। এখানেও সমাজের বৈষম্যের চিত্রটা বেশ দেখা গেছে। যাক বিতর্ক আর না বাড়ানোই ভালো। সবশেষে খালি একটা কথাই লিখি, মানুষ দুজন হয়তো বাংলাদেশের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রত্যেক মানুষের সাথে পরিচিত ছিলেন না, তাদের কর্মকান্ডের প্রতি হয়তো সমগ্র সমকামী সম্প্রদায়ের সমর্থন ছিলো না, কিন্তু তাদের প্রতি সবার শ্রদ্ধা ছিলো, তাদের প্রতি সবার ভালোবাসা আছে। তাদের প্রতি সবার দায় আছে, তারা সহ সমস্ত রূপবান টিম বাংলাদেশের সমকামিতা ট্যাবুকে ভেঙ্গে দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে আমরা আছি”। রূপবান উচ্চারণ করেছে  ভালোবাসতে দাও মোরে”।

 

শ্রদ্ধা জুলহাজ মান্নান,

শ্রদ্ধা মাহবুব রাব্বী তনয়।

শ্রদ্ধা এই দু’জন মানুষের আত্মারপ্রতি, কোনো ট্যাগ চাইনা, সবাই একবার দ্ব্যার্থহীন ভাবে তাদের “মানুষ” বলুক শুধু মানুষই বলুক।