অরুন

ওই যে অরুন, ক্লাসের টেবিলে রংচটা শার্ট আর গীটার হাতে বসে গান গাইত

মাথা ভর্তি মখমলে চুল আর দুচোখ ভরা স্বপ্ন! বদলে গেছে……

স্বপ্নগুলো নয়, অথবা কে জানে হয়তো দুটোই

ঘুলঘুলি দিয়ে আসা আলোয় যে আধারির খেলা ধরত

শব্দের পিঠে শব্দ গেঁথে বুনে ফেলত জাল, বলত এসে “খেলবি রে? চল কাব্য খেলি”

আমার বোকা শূন্য মাথা, এদিক ওদিকে বাঁকিয়ে বলেই ফেলি “সেটা আবার কেমন খেলা”

ও তো হেসেই খালাস, বলে “তাহলে চল, দিনের আলোয় জোনাকি ধরি!”

আমি বলি, “পাগল নাকি? জোনাকির আলো শুধুই রাতের”; আবার সে হাসি

আমি অবাক মুগ্ধতায় তাকিয়ে দেখি, কি অদ্ভুত সে হাসি! ভয়ে চোখ সরাই

ধরেই ফেলল কিনা চোখ কে জানে, দূরত্ব কমে, আলতো করে ওই সুদৃঢ় হাতের মাঝে হাত টেনে নিয়ে বলে; “মুগ্ধতার চেহারা কতো নিষ্পাপ জানিস?”

অস্বস্তি বাড়ে, আমি কতো বোকা এটাও খুলে যাওয়ার ভয়ে, “এ কেমন কথা?”

মনের কথাও পড়তে পারে? বলে “কেন এতো ভয়?”

চমকে উঠি, আটকে যাই। তারপর………

অনেক বছর বাদে, হঠাৎ দেখা; হতচ্ছাড়া গরমে টাই বেঁধে ছিল, কি বেমানান, অথচ অসহ্য সুন্দর!

বলে, “হেই হোয়াটসআপ?”, আমি আরও বেশি বোকা, তাকিয়ে থাকি ফেলফেল, তারপর ছোট খাট একথা ওকথা।

হঠাৎ বলে ওঠে, স্যরি প্লীজ ডোন্ট মাইন্ড, আই হ্যাভ টু গো নাও, ঘড়ি দেখিয়ে কেমন অদ্ভুত, হয়তো খানিকটা অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলে, “নিড টু পিক আপ মাই ওয়াইফ”

আমি তাকিয়ে থাকি, ইতস্তত নিজের হতাশায়, চালাক হওয়া হল না।