ফেরা ( পর্ব -২)


আমি ক্লাস সেভেনে উঠলাম । আজকাল আমার জানি কি হয়েছে ছেলেদের নগ্ন শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। তখন একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়। আমার যৌনাঙ্গ শক্ত হয়ে যায়। মাঝে মাঝে আঠালো পদার্থ নিঃসৃত হয়। স্বপ্নে নগ্ন পুরুষ দেখি। ঘুম থেকে উঠে দেখি চাদর ভেজা। আমার খুব ভয় লাগে। কিন্তু কাউকে বলতে ও লজ্জা লাগে। কোন বড় অসুখ না তো ? ঈশ এখন যদি মনি থাকতো ! সে নিশ্চয় কোন উপায় বলতো।
স্কুলে একজন নতুন স্যার এলেন। আমার দাদু তাকে আমার গৃহশিক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দিলেন। যাকে বলে লজিং মাস্টার। থাকবেন আমার সাথে এক ঘরে। আমি খুব বিরক্ত। একজন বয়স্ক মানুষ সবসময় আমার ঘরে থাকবেন। তাও তিনি আমার আবার শিক্ষক। এখন আর যখন তখন যা ইচ্ছা করা যাবে না। কিন্তু কোন প্রতিবাদ করতে পারছি না। দাদাজানের মুখে মুখে কথা বলতে পারবো না।
স্যারের নাম রফিক। যেদিন রফিক স্যার আসবেন আমাকে পাঠানো হল নদীর ঘাটে যেয়ে স্যার কে নিয়ে আসার জন্য।আমার মোটেও ইচ্ছে করছে না। কিন্তু না যেয়ে উপায় কি।দাদাজান বলেছেন।অনিচ্ছা সত্ত্বেও গেলাম।
ঘাটে গিয়ে দেখলাম একজন অত্যন্ত সুদর্শন একজন লোক লাগেজ নিয়ে নৌকায় বসে আছে।নীল রঙের পাঞ্জাবি পরা। আমি হাত ধরে নৌকা থেকে নামালাম। তিনি নামতে পারছিলেন না। নাম পরিচয় কুশল বিনিময় হল। তার নাম রফিকুল আলম। রকিফ স্যার খুব বন্ধু-সুলভ। গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি আর তিনি এই কথা সেই কথা জিজ্ঞেস করছেন। বাসায় টিভি আছে কিনা, গান শুনার ব্যবস্থা আছে কিনা এসব। কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর না বোধক। তিনি উত্তর শুনে কেমন হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একটা কথা শুনে খুব খুশি হলেন। আমাদের বাসায় বিশাল একটা লাইব্রেরী আছে। স্যারের কথা শুনে বুঝলাম স্যার বই পড়তে খুব পছন্দ করেন।
আমাদের বাড়ি দেখে স্যার হা হয়ে গেলেন। এতো সুন্দর বাড়ি নাকি তিনি জীবনে দেখেন নাই। এরপরে হা হলেন ঘরে ঢুকে। আমার বিশাল বড় খোঁদাই করা সেগুন কাঠের পালঙ্ক দেখে তিনি বলেই ফেললেন এতো সুন্দর পালঙ্ক তিনি আগে দেখেন নাই। স্যার ফ্রেশ হয়ে যখন বের হলেন তখন তার জন্য আরেকটি চমক অপেক্ষা করছে। দাদু খেতে ডেকেছেন। সেখানেও প্রায় কমসেকম ২০ টি পদ রয়েছে। দাদু কম পদ টেবিলে থাকলে খুব রাগ করেন। খেতে পারেন না। তাছাড়া স্যার আসা উপলক্ষে আজকে কিছু পদ বেশি রান্না করা হয়েছে।
দাদু খাবার টেবিলেই নানা কথা জিজ্ঞেস করলেন। সেই সব উত্তর থেকে বুঝলাম স্যার খুব দুঃখী। ছোট বেলায় বাবা মারা গিয়েছেন। ছোট ছোট ভাই বোন। মা একটা প্রাইমারী স্কুলের টিচার। তার একার আয়ে সংসার চলে না।স্যার চাকুরী পাচ্ছিলেন না। তাই তো তিনি এতো দূরে এসেছেন শিক্ষকতা করতে।
প্রথম প্রথম স্যারের সঙ্গ খুব ভাল লাগতো। নানা ধরনের গল্প করতেন তিনি। জোকস বলতেন। বিখ্যাত লেখক দের লেখা গল্প বলতেন। আমি তন্ময় হয়ে শুনতাম। লাইব্রেরি থেকে অনেক বিখ্যাত লেখকদের বই আমাকে খুঁজে খুঁজে বের করে দিয়েছিলেন পড়ার জন্য। তার খুঁজে দেয়া বই গুলোর মাঝে যক্ষের ধন বইটা আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। স্যার কে খুব ভাল লেগে গেলো। কিন্তু স্যারের একটা অন্য রূপের সাথে পরিচিত হলাম কয়েকদিনের মাঝেই। এক কুৎসিত কদাকার রূপ। স্যারের সুন্দর চেহারার আরেকটা পিঠ। ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের মত।
স্যার ঘুমাতে গেলেই কেন জানি একদম আমার গা ঘেঁষে ঘুমাতেন। এতো বড় পালঙ্কে, এতো জায়গা খালি থাকতে গা ঘেঁষে কেন ঘুমাতেন তা আমি বুঝতে পারতাম না। কিন্তু একদিন বুঝলাম। সেই দিনের কথা ভাবলে এখনো গায়ের লোম দাড়িয়ে যায়। স্যার সেই রাতে ঘুমের মাঝে হটাত আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর সারা শরীরে চুমু দিতে লাগলেন। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। আমার কেমন জানি ভালও লাগছিলো।যৌনাঙ্গ শক্ত হয়ে গেলো। আমিও তার সব কর্মকাণ্ডে সারা দিচ্ছিলাম।কিন্তু স্যার ব্যথা দিলেন। আমি আর নিতে পারলাম না ।
পরদিন ছুটি ছিল। শুক্রবার। সারাদিন আমি মন মরা হয়ে থাকলাম। আমি এ কি করলাম। স্যার কেন এমন করলেন। মাথার মাঝে সারাক্ষণ এই প্রশ্ন ঘুরতে লাগলো। কেমন জানি নিজের উপর ঘৃণা জন্মালো। অনুতপ্ত হলাম।ভয়ও পেয়েছি অনেক। কিন্তু এরপর আবার স্যার যদি এমন করে তখন কি করবো। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। ঘরে যাচ্ছি না ভয়ে। কারন স্যার আছে। আমি মনস্থির করলাম যেভাবে হোক স্যারের এই কাজে আর সায় জানানো যাবে না।
রাতের খাবারের পর ২ জনই শুয়ে পরলাম। স্যার কেমন জানি উশখুশ করছেন। আমি মরার মত চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলাম।কিছুক্ষণ পর স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন । সারা দিলাম না। চুমু খেলেন। আমি সারা দিলাম না।নানা ভাবে স্যার চেষ্টা করলো আমাকে জাগাতে। কিন্তু আমি মরার মত পরে রইলাম। স্যার খুব ক্ষেপে গিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়লেন। স্যারের সেই রুদ্রমূর্তির কথা এখনো আমি ভুলি নাই। রেগে গিয়ে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিচ্ছিলেন। পরীক্ষায় পাশ করাবেন না বলেও হুমকি দিলেন। তখন আমার টনক নড়লো।পরীক্ষায় তো ফেল করা যাবে না। আমি চোখ খুললাম। মাফ চাইলাম স্যারের কাছে। আমি দেখলাম স্যার অদ্ভুত ভাবে বিজয়ের হাসি হাসছেন।
১ সপ্তাহ হল প্রতি দিন স্যারের সাথে আমার শারীরিক মিলন হয়। আমার জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে গেলো। সারাটা দিন, সন্ধ্যা মন মরা হয়ে থাকি। কিছুই ভাল লাগে না।পড়াশোনা হয় না। অনুতপ্ত লাগে। মনে হয় বিশাল বড় পাপ করছি।কাউকে বলতেও পারছি না। মনি থাকলে তাকে বলতাম। কিন্তু সে কোথায় কে জানে। সন্ধ্যা হতেই ভয় লাগা শুরু হয়। আবার সেই স্যারের সাথে এক বিছানায়।
গোধূলি লগ্নে আমি পুকুর ঘাটে বসে কাঁদছি। এছাড়া কিবা করার আছে। ঝড় ঝড় করে বৃষ্টি নামলো। বৃষ্টি তে ভিজছি আর কাঁদছি। আমার কাছে মনে হয়েছে দাদু কে বললে দাদু বিশ্বাস করবেন না। তাই বলি নাই। কিছুক্ষণের মাঝে দেখলাম ছোট কাকু ছাতা নিয়ে ঘাটে এসেছেন। আমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে তিনি অবাক। আর চোখে পানি দেখে আরো অবাক হলেন। ছোট কাকু আমাকে সবচেয়ে আদর করতেন। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন
বাবা কাঁদছিস কেন?
আমি এইটুকু কথা শুনেই ভ্যায় করে কেঁদে দিলাম। তিনি আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। আমি ভরসা পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে স্যার আমার সাথে যা যা করেছেন সব বলতে লাগলাম। কিছু শুনেই কাকু আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন
বুঝেছি। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
নিজেকে মনে হল ভার মুক্ত হলাম।একটা শান্তির পরশ পেলাম।বুকটা হাল্কা লাগলো।
কিন্তু ছোট কাকু প্রচণ্ড রেগে আছেন। তার শীতল কণ্ঠে আমারই লোম দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বুঝলাম স্যারের এইবার সব কিছুর জবাব দিতে হবে। ছোটকাকু আমাকে বললেন কাউকে কিছু না বলতে। তারপর আমাকে ঘরে পাঠিয়ে দিলেন।
সেদিন রাতে খাওয়ার আগে স্যার জানি কোথায় গেলেন। আমাকে কিছু বলে যান নাই। খাবার ঘরে সবাই উপস্থিত। স্যার নেই। দাদু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন-
– রফিক ঘরে নেই?
– না দাদাজান। স্যার তো ঘরে ছিল না। কোথায় জানি গেলেন খুব তাড়াহুড়ো করে। আমাকে বলে যান নাই।
দাদাজান কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন-
– তোমরা খাওয়া শুরু কর। রফিক পরে খেয়ে নিবে। ওর জন্য আর অপেক্ষা করবো না।
সেদিন রাতে স্যার ফিরলেন না। তারপরের রাতেও না। তারপরের দিন সকালে নদীর ধারে স্যারের লাশ পাওয়া গেলো। পচা গলিত লাশ।

আমি দেখতে দেখতে এইটে উঠে গেলাম। আজকাল আমার স্কুলের সবাই মেয়েদের নিয়ে অনেক গল্প করে। তাদের নগ্ন ছবিও যোগার করেছে অনেকে।লুকিয়ে লুকিয়ে সবাই মিলে তা দেখে। কিন্তু আমার ভাল লাগে না। আমার কেন জানি নগ্ন পুরুষের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভাল লাগে। নগ্ন মেয়ে দের দিকে নয়। আমার ভয় লাগে। আমি কেন এরকম।কাউকে বলতেও পারি না। কি করবো ?
হটাত করে একদিন বড় চাচা এসে হাজির হলেন। যুবক বয়সে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা চুরি করে দাদুর ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এরপর প্রায় ১৫ বছর পর বাড়ি ফিরলেন। এখন অবশ্য টাকা চুরির কথা কেউ উল্লেখ করলো না। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে সেটাই অনেক বড়।তিনি নাকি ইতালি থাকতেন। ভাল লাগে না দেখে চলে এসেছেন। কিন্তু অনেকে বলেন তিনি অবৈধ অভিবাসী ছিলেন । তাই তাকে বের করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে দাদার বেহিসাবি খরচ , নবাব দের মত জীবন যাত্রার কারনে আমাদের আর্থিক সমস্যা শুরু হল। এখন তো জমিদারি নাই। তাই উপার্জন খুব কম। প্রায়ই দাদু জমি বিক্রি করে রঙ মহলে আসর বসান, মদ পান করেন। আবার দামী দামী কাপড়, খাবার আনান সেই ঢাকা থেকে। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভাণ্ডার ও শূন্য হয়ে যাবে। এটা বুঝতে পারেন নাই বড় কাকু, মেজ কাকু এবং দাদু। কিন্তু ছোট কাকু ঠিক বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি ব্যবসার চিন্তা ভাবনা করছিলেন। কিন্তু দাদু আর মেজ আর বড় কাকু করলেন না। জমিদার বংশের পুরুষ হয়ে ব্যবসা করবেন এ কেমন কথা। বসে বসে খাবেন তবুও কিছু করবেন না।
এদিকে বড় কাকু দেশে ফিরেই প্রচুর খরচ শুরু করলেন। একটা সার্কাসের দল নিয়ে আসলেন প্রচুর টাকা খরচ করে।তার ইচ্ছা ইলেকশনে নামা। তাই গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সার্কাসের দল আনা। এরপর সবাই আমরা গেলাম ব্রহ্মপুত্র নদে বজরায় করে নৌবিহারে। ছোট কাকু শুধু গেলেন না । তার কথা এইভাবে খরচ করলে রাজার ভাণ্ডার শূন্য হতে বেশী দিন সময় লাগবে না।তিনি কারো কথা না শুনে ব্যবসার চিন্তা ভাবনা করতে লাগলেন

গ্রামে যে কয়টা ধনী পরিবার রয়েছে তাদের মাঝে বাচ্চু পরিবার একটি। বাচ্চুর এক স্ত্রী রয়েছে। কিন্তু বাচ্চা হয় না। তাই বাচ্চু হটাত করে ঢাকায় যেয়ে আরেকটি বিয়ে করে বউ নিয়ে আসলো। বউয়ের সাথে সাথে শ্যালক রনিও আসলো। এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তেমন কোন কথা হল না। কারন গ্রামে অনেকের একটা নয় দুইটা এমন কি তিনটা বউ রয়েছে। প্রথম বউ সারা দিন কাঁদলো । দ্বিতীয় দিন কান্না থামিয়ে আরো দশটা দিনের মত রান্না করতে গেলো। যেন এটাই স্বাভাবিক।
আমি তখন ক্লাস নাইনে। রনি কেও বাচ্চু মিয়া ক্লাস নাইনে ভর্তি করে দিলো । আমি যেমন জমিদারের নাতি। তাই শিক্ষক রা আমাকে সমীহ করতো ঠিক সেরকম রনি ছিল গ্রামের সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তির শ্যালক। তাকেও সব শিক্ষকরা একই রকম ভাবে সমীহ করতো।
কিন্তু আমাদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিলো। দাদু অসুস্থ। এর মাঝেও রঙ মহলে যান। জমিজমা আর বেশি নেই। বড় কাকু সেই রকম সৌখিন জীবন যাপন শুরু করলেন। এর জন্য জমিও বেচতেন। বড় কাকু আমাকে সহ্য করতে পারতেন না। আমাকে দেখলেই তার মনে পড়তো এই সম্পত্তির আরেকজন ওয়ারিশান আছে। তিনি মনে প্রাণে চাইতেন আমি যেন এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। সেইজন্যে নানান ধরনের অত্যাচারের চেষ্টা করতেন। কিন্তু সবসময় ছোট কাকু আমাকে আগলে রাখতেন। তিনি হাজার চেষ্টা করেও আমার কোন ক্ষতি করতে পারতেন না।

(দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্য)