স্বীকারোক্তি

 

প্রিয় অঞ্জন ,

হঠাৎ আমার চিঠি পেয়ে খুব অবাক হয়েছ তাই না? তুমি নিশ্চয় আশা কর নি যে আমি তোমাকে চিঠি লিখবো। যেভাবে নিষ্ঠুর ভাবে তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছি তাতে চিঠি লেখা আমাকে মানায় না, তাই না? কেন ছেড়ে গেলাম তার স্বীকারোক্তি দিতেই চিঠি লেখা।

বসে আছি জানালার ধারে। পাশ দিয়ে বয়ে চলছে টেমস নদী। হ্যাঁ, আমি এখন লন্ডনে। বিলেতে বসে চিঠি লিখছি তোমাকে। ফেব্রুয়ারি মাস শেষ।এখনো হিম হিম ঠাণ্ডা লন্ডনে। চামড়ার জ্যাকেট পরে আছি। তার উপর হিটার তো রয়েছেই। প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে উঠেছে। যেদিকে তাকাই সাদা  শুভ্র তুষারে আবৃত চারিদিক। গাছ গুলো থেকে পাতা ঝরে পড়েছে অনেক আগেই। অথচ এই সময়টা বাংলাদেশে কতটাই না রঙিন। মনে পরে যাচ্ছে তোমার সাথে কাটানো জীবনের রঙিন সময় গুলোর কথা। আমার নিঃসঙ্গ জীবন তুমি তো রাঙিয়ে দিয়েছিলে। শিখিয়ে ছিলে কিভাবে জীবনকে উপভোগ করতে হয়।

আচ্ছা আমাদের বাড়ির পাশের কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার গাছে কি লাল আর হলুদ ফুলের মেলা বসেছে? আম গাছ গুলো তে কি মুকুল  ধরেছে? আর বরই গাছের পাকা বরই? খুব দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমি যে সেই হাজার হাজার মাইল দূরে রানীর দেশে। আচ্ছা এইবারও কি পহেলা ফাল্গুনে আমাদের ক্লাবে প্রোগ্রাম হয়েছে? নাটক হয়েছে? মেয়েরা কি এইবারও বাসন্তী শাড়ি পরেছে? মাথায় গাদা ফুলের মালা? তুমি কি প্রতিবারের মত এইবারও শুভ্র সাদা পাঞ্জাবি পরেছো? নাকি আমার কথা রেখে কোন  রঙিন পাঞ্জাবি পরেছ? তুমি বলতে আমার নাচ ছাড়া আমাদের মহল্লার ক্লাবের প্রোগ্রাম পরিপূর্ণ হয় না। কিন্তু আমি তো এইবার নেই। আমার বদলে নিশ্চয়ই নতুন কেউ নেচেছে। শুন্য স্থান সবসময় কেউ না কেউ এসে পূরণ করে। খালি থাকে না।

কি  বক বক করছি বল তো। আসলে দেশ থেকে দূরে থাকলেই দেশের মর্ম বুঝা যায়। আচ্ছা এইবারও কি সরস্বতী পূজা ধুমধাম করে পালন করা হয়েছে।এই দেশে তো সেই পূজা আমি দেখতে পেলাম না। তোমার সাদা শুভ্র ধূতি পরে পূজা করার দৃশ্য এখনো আমার চোখে ভাসে।  কত যে পবিত্র লাগতো তোমাকে তখন। সবশেষে পুজার ভোগ সবাই মিলে খাওয়ার সে কি আনন্দ। একটার পর একটা স্মৃতি আমার মনের জগতে আসছে আর আমি নস্টালজিক হচ্ছি। আসলে নস্টালজিক হওয়া ছাড়া আমার আর কোন কাজও নেই। পুরানা স্মৃতি গুলো ঘাঁটাই এখন আমার এক মাত্র কাজ।

তোমাকে একটা কথা বলা হয় নাই। আমি পড়াশোনা করতে লন্ডনে আসি নি। এসেছি চিকিৎসা করতে। বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। হ্যাঁ, আমি ব্লাড ক্যনাসারে আক্রান্ত। খুব চমকে গেলে বুঝি? কেন মিথ্যা বলেছি তোমাকে। তুমি নিশ্চয়ই জানতে চাইছো? আসলে মিথ্যা না বললে যে তুমি রিনি কে বিয়ে করতে না। আমি কার কাছে তোমাকে সঁপে দিয়ে যেতাম বল? তোমাকে একা রেখে গেলে আমি যে মরেও শান্তি পাবো না। প্লিজ চোখ থেকে এক ফোঁটা পানিও ফেলবে না। সারা দিন চোখের পানি দেখতে দেখতে আমি নিজেই কাঁদতে ভুলে গিয়েছি। বাবা মায়ের চোখের দিকে তাকাতে পারি না। তাদের চোখের ভাষা বলে দেয় আমার শরীরের অবস্থা ভাল নয়। হয়তো  বেশি দিন বাঁচবো না। আমি এক ফোঁটা চোখের পানিও ফেলি না। অথচ আমার কাঁদতে খুব ইচ্ছা করে কাউকে জড়িয়ে ধরে। আমি কাঁদলে যে আমার বাবা-মা আরও ভেঙ্গে পড়বে। আমি জোর করে আনন্দে থাকি। জীবনের এই ক্রান্তিকালে কোন কিছুই ভাল লাগার কথা না। যার সামনে নেই কোন ভবিষ্যৎ তার কি কিছু ভাল লাগবে? কিন্তু আমি আগ্রহ ভরে কার্টুন দেখি, রক এন্ড রোল গান শুনি । কিন্তু কেউ জানে না। আমি শুধু টিভি র দিকে তাকিয়েই থাকি। কিন্তু কিছুই দেখা হয় না। কিছুই শোনা হয় না।

জীবন টা হটাত করে এত স্থবির হয়ে গেলো কেন বল তো? কত স্বপ্ন ছিল বড় চিত্র শিল্পী হব। অসংখ্য ছবি আঁকবো বৃষ্টি আর প্রকৃতির। আমার কি আর বাংলাদেশের বৃষ্টি তে কখনো ভেজা হবে? তোমার সাথে কতই না ভিজেছি। রিকশা হুড তুলে বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে সেই গ্রিন রোড থেকে শ্যামলি যাবার কথা কিভাবে ভুলি? আমার ভিতর থেকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে আমি মরতে চাই না। বাঁচতে চাই। তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু তা তো হবার নয়? মৃত্যু তো দ্বারে কড়া নাড়ছে।

জানো আমার মাথার সব চুল পরে গিয়েছে কেমো দিতে গিয়ে। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছি। তোমার সেই কিউটিপাই এখন আর  নেই আমি। আমাকে দেখলে সবাই এখন করুনার দৃষ্টিতে তাকায়। তখন আরও অসহ্য লাগে। আমার হসপিটালের কেবিনে এখন আর একটিও আয়না নেই। আমি সরিয়ে ফেলতে বলেছি। আমি আমার এই চেহারা আর দেখতে চাই না।

আচ্ছা এইবার ভ্যালেন্টাইন্স’ ডে তে কি করেছো? রিনি কে কি ডায়মন্ডের রিং পরিয়ে দিয়েছো যেমন টা আমাকে দিয়েছিলে। অবশ্য বিলেত যাবার আগে সেই আংটি আমি খুলে তোমাকেই তো দিয়ে এসেছি।  যখন প্রথম তোমার বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলো খুব রাগ উঠেছিল আমার। কারণ আমি তো জানতাম তুমি আমার। সারা জীবনের জন্য আমার। কেউ তোমাকে আমার কাছ থেকে কেঁড়ে নিতে পারবে না। সেদিন তো তোমাকে কত বুদ্ধি দিয়েছিলেম কি করে বিয়ে না করার অজুহাত দেখাবে। তুমি আমার হাত ধরে বলেছিলে যতদিন আমি তোমার থাকবো ততদিন পৃথিবী উল্টে গেলেও তুমি বিয়ে করবে না। কি যে ভরসা পেয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু কি হয়ে গেলো দেখো। আমার প্রায়ই জ্বর আসতে লাগলো। সাধারণ জ্বর ভেবে খুব অবহেলা করেছিলাম। তুমি প্রায়ই বলতে ডাক্তার দেখাতে। আমি পাত্তা দিতাম না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন বেশ ভাল রকম জ্বরে পরলাম তখন আর অগ্রাহ্য করতে পারলাম না। বাসা থেকে জোর করে নিয়ে গেলো ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিলেন। পরীক্ষা গুলো করেই তোমার সাথে দেখা করলাম। তখনো কিছু বুঝি নি। ডাক্তার কোন আভাসও দেন নাই। আমি আর তুমি গেলাম দিয়াবাড়ি। তখন শরৎকাল । চারিদিকে সাদা শুভ্র কাশ ফুল। তুমি তো জানোই কাশফুল আমার কত্ত প্রিয়। তাই তো নিয়ে গেলে দিয়াবাড়ি। সেদিন বললে বাসায় খুব ভাল একটা প্রস্তাব এসেছে। রিনি নামের একটা ডেন্টিস্ট মেয়ে। খুব সুন্দরী আর পরিবারও ভাল তোমাদের মতই। তোমার বাবা মা যে কোন মুল্যে তোমাকে তার সাথে বিয়ে দিতে চায়। খবর টা শুনে আমার খুব রাগ উঠে গেলো। একটা সামান্য বিয়ে তুমি ঠেকিয়ে রাখতে পারো না। তোমাকে অনেক বকাবকি করলাম। যখন সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যাচ্ছে , গোধূলি লগ্ন এসে উপস্থিত তখন তুমি আমার হাত ধরে বললে আমি ছাড়া তোমার জীবনে আর কেউ নাই, থাকবেও না, ছিলও না। আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত সেটি। তুমি জানো না আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। কিন্তু সব কিছু পালটে গেল পরের দিন। আমার রক্ত পরীক্ষার পেপারস গুলো হাতে চলে এলো। ডাক্তার খুব গম্ভীর মুখে পেপারস গুলো দেখলেন। তারপর যা হবার তাই। ডাক্তার সরাসরি আমাকেই বললেন আমার রোগ টার কথা। ব্লাড ক্যান্সার। যার বাংলাদেশে ভাল ট্রিটমেন্ট নেই। অবশ্য বিদেশে নিয়ে গেল ভালও  হয়ে যেতে পারি। সেদিন থেকে আমার জীবন স্থবির হয়ে গেলো।অনেক ভাবলাম বাসায় এসে। ভেবে এটুকু বুঝলাম তোমার জীবনে আমার উপস্থিতি হয়তো আর অল্প কয়েকটা দিন। এর পর তোমার কি হবে? আমি কি স্বার্থপর হব? তোমাকে কারো কাছে না রেখেই চলে যাবো। আমি তো তোমাকে ভালবাসি। তোমার ভালটাই তো আমার চিন্তা করতে হবে।একা একা আমার স্মৃতি নিয়ে থাকা তোমার জন্য কত কষ্টের হবে তা আমি বুঝি। অনেক কাঁদলাম একা একা । আমার জীবনটাই কেন এমন হল। আর কত বসন্ত আসবে, কত রঙিন সব দিন আসবে। সবাই থাকবে। শুধু আমি থাকবো না। হয়তো কারো আমার কথা মনেই থাকবে না। আকাশের তারা হয়ে হয়তো আমি সবই দেখতে পারবো কিন্তু কথা বলার শক্তি তো থাকবে না। সৃষ্টি কর্তার উপর খুব অভিমান হচ্ছিলো। আমার এত স্বপ্ন কিছুই তো পূরণ হবে না। সব চিন্তা ছাপিয়ে যে চিন্তা মাথায় আসছিল তা হল তোমার কথা!

আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাকে অভিনয় করতে হবে। আসলে জীবনে চলতে গেলে আমাদের সবারই কিছু না কিছু অভিনয় করতে হয়। আমিও করতে পেরেছি । পাকা অভিনেতাই বলতে হবে আমাকে।আবার গেলাম আমাদের সেই প্রিয় দিয়াবাড়িতে। সেই আমার শেষ যাওয়া। মনে মনে ভাবছিলাম আমি অভিনয় করতে পারবো তো। কিন্তু আমার পারতেই হবে। আমি তোমাকে বললাম ব্রিটেনে আমার স্কলারশিপ হয়ে গিয়েছে। আমি চলে যাচ্ছি। তুমি কিছুক্ষণ অবাক হয়ে আমার দিকে ত্তাকিয়ে ছিলে।চোখে ছিল অবিশ্বাস । কিছুক্ষণ নির্বাক থেকে বললে আমি নাকি রশিকতা করছি। আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো তা তোমার কাছে অকল্পনীয় ছিল। কিছুতেই তুমি বিশ্বাস করছিলে না। বাধ্য হয়ে আমি কঠিন স্বরে বললাম যে আমার কাছে ক্যারিয়ার আগে তারপর ভালবাসা । এই কথা বলতে আমার যে কি কষ্ট হয়েছে তা তুমি জানো না। তোমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরলো আর আমার হৃদয় থেকে রক্ত ক্ষরণ হল। তাও আমি নির্বিকার থাকলাম। আমি চলে এলাম। বাসে সারাটা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে এলাম। আমি জানি তুমি আমাকে ঘৃণা করেছিলে।আমি তো তাই চেয়েছিলাম। তাই তো অল্প কয়েকদিনের মাঝে বিয়ে করলে রিনি কে আর আমি চলে এলাম ব্রিটেনে খালার কাছে চিকিৎসার জন্য।

ভেবেছিলেম কোনদিন জানাবো না। কিন্তু মৃত্যুর পর ও তোমার ঘৃণার পাত্র হয়ে থাকবো তা কেন জানি মানতে পারছিলাম না। তাই সব স্বীকার করলাম আজকে। খবরদার চিঠি পড়ে কাঁদবে না।

চিঠি শেষ করবো তার আগে একটা ভাল খবর দিয়ে যাই। এইবার বইমেলা তে আমার কবিতার বই বের হচ্ছে। আমার অনেকদিনের স্বপ্ন । মৃত্যুর আগে অন্তত একটা স্বপ্ন পূরণ হল। আফসোস আমি আমার বই এর প্রকাশনা উৎসবে থাকতে পারবো না। আমার হয়ে তুমি থেকো। তাহলে আমি হয়তো কিছুটা শান্তি পাবো।

অজানা পথে পা বাড়াচ্ছি । খুব ভয় করে। একাকী যেতে হবে এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কোন রহস্যময় জগতে।অন্ধকার কবরে। না জানি কি অপেক্ষা করছে সেই অন্ধকার জগতে। আমি তো পঙ্কিল জগতের অধিবাসি।আমি তো অনেক পাপী।আচ্ছা আমার কি অনেক শাস্তি হবে?

জীবন খুব নিষ্ঠুর। কিভাবে যে সময়ের রথে জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলাম।এখন জীবন কে খুব অর্থহীন মনে হয়! কি দরকার ছিল জন্ম নিবার। আমার অস্তিত্ব না থাকলেই মনে হয় ভাল ছিল। সবাই কে ছেড়ে যেতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।চোখ ভিজে আসতে চায় যখন ভাবি কখনো আর তোমাকে দেখতে পাবো না। তোমার সাথে আর খুনসুটি করা হবে না। হাজারটা দোকান খুঁজে তোমার জন্য রঙিন পাঞ্জাবি কেনা হবে না। আম্মু কে আর শাড়ির সাথে মিলিয়ে গহনা পছন্দ করে দেয়া হবে না। আব্বুর পাশে বসে গম্ভির মুখে আর টিভি তে বাংলা নাটক দেখা হবে না । ছোট ভাইয়ের সাথে আর চকলেটের ভাগ নিয়ে মারামারি করা হবে না।

সব ঠিক থাকবে। আবার ফেব্রুয়ারি আসবে। আসবে বসন্ত উৎসব। কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল ফুটবে। বই মেলায় নতুন নতুন বই বের হবে। শুধু থাকবো না আমি। হয়তো তোমার আর রিনির কোল জুড়ে বেবি আসবে। কিন্তু আমি দেখতে পাবো না। আব্বু আম্মু হয়তো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আমার অন্য ভাই বোন দের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করবে।প্রতি শুক্রবার সকাল বেলা আগের মত আম্মু আমার প্রিয় পরোটা , হালুয়া রান্না করবে। ভাই বোন রা সবাই মিলে হইচই করে খাবে।থাকবো না শুধু আমি। হয়তো বাসার কোন এক দেয়ালে আমার ছবি দেখে কেউ কেউ আমার কথা কখনো কখনো স্মরণ করবে। তারপর তারপর আস্তে আস্তে বিস্মৃতির জগতে তলিয়ে যাবো আমি।

তোমরা যখন পৃথিবীর এই আনন্দ ভুবনে থাকবে তখন হয়তো হাজার হাজার মাইল দূরে কোন অন্ধকার জগতে পৃথিবীর পাপ পুণ্যের হিসেব মেলাতে ব্যস্ত থাকবো। শুনেছি হাসরের ময়দানে নাকি পরম প্রিয়জনও আর তার প্রিয়জনের দিকে ফিরেও তাকাবে না। তাই যদি হয় তাহলে আমাদের ভালবাসার সমাপ্তি এখানেই। পরকাল যদি থেকে থাকে সেখানেও তোমাকে পাবো না।

কি উল্টা পাল্টা বকছি তাই না? আসলে আজকাল সারাদিন শুধু এগুলোই মনে হয়।সন্ধ্যা হয়ে আসছে। বিলেতের এই সন্ধ্যাবেলাটা খুব বিষণ্ণ। মৃত্যুর কথা আরও বেশি করে মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় যে আমার সময় শেষ হয়ে আসছে। আমার খুব কান্না পাচ্ছে।চোখের জলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। আর লিখতে পারছি না। ভাল থেকো।

ইতি

তোমার পলাশ